আমি এমন মানুষ দেখেছি যাদের জন্যে এই দুনিয়া তাদের পায়ের নিচের ধুলো থেকেও তুচ্ছ


আমি এমন মানুষ দেখেছি, যাদের জন্যে এই দুনিয়া তাদের পায়ের নিচের ধুলো থেকেও তুচ্ছ। আমি এমন মানুষ দেখেছি যারা দিনশেষে শুধুমাত্র তাদের নিজের অংশের খাবারটুকু জোগাড় করতে পারতেন, তবুও তারা বলতেন, “আমি এর সবটুকু দিয়ে নিজের উদরপূর্তি করব না। আমি অবশ্যই এর কিছু অংশ আল্লাহর ওয়াস্তে দান করব।” এরপর তারা তাদের খাবারের কিছু অংশ দান করে দিতেন যদিও গ্রহণকারীর চেয়ে ওই খাবারটুকু তাদেরই বেশি প্রয়োজন ছিল।

— হাসান আল-বাসরি (রাহিমাহুল্লাহ)

[‘হিলইয়া আল-আউলিয়া’তে আবু নু’আইম-এর ‘আলক্বামা ইবন মারসাদ থেকে বর্ণিত]

কুরআন থেকে যারা দূরে সরে যায় তাদের অস্থিরতা বেড়ে যায়

“কুর’আন থেকে যারা দূরে সরে যায় তাদের অস্থিরতা বেড়ে যায়, তাদের জীবনটা অগোছালো হয়ে যায়, এলোমেলো হয়ে যায়।”

— শাইখ আব্দুর রহমান মাদানী

[পিস টিভির অনুষ্ঠানে আলোচনাকালে, ২০/০২/২০১৫]

তোমরা যদি তাদের দেখতে তাহলে তাদের উন্মাদ বলতে

“হায় আদম সন্তান! তোমরা কি আল্লাহর সাথে যুদ্ধ করতে সক্ষম? যে আল্লাহকে অমান্য করে সে তো তাঁর সাথেই যুদ্ধ ঘোষণা করল! আল্লাহর শপথ! বদরের ৭০ জন যোদ্ধার সাথে আমার দেখা হয়েছে। তাদের বেশিরভাগেরই পোষাক ছিল পশমের।”

​​তোমরা যদি তাদের দেখতে তাহলে তাদের উন্মাদ বলতে, আর তারা যদি তোমাদের মধ্যে উত্তমদের দেখতেন তাহলে বলতেন, “আখিরাতে তাদের জন্যে কিছু নেই।” তারা যদি তোমাদের মধ্যে অধমদের দেখতেন তাহলে তারা বলতেন, “তারা শেষ বিচারের দিন’-এ বিশ্বাস করে না।”

— হাসান আল-বাসরি (রাহিমাহুল্লাহ)

[‘হিলইয়া আল-আউলিয়া’তে আবু নু’আইম-এর ‘আলক্বামা ইবন মারসাদ থেকে বর্ণিত]

কলম খুব শক্তিশালী হলেও জিহবা তার চেয়েও অনেক বেশি শক্তিশালী

“আমরা ভুলে যাই কলম খুব শক্তিশালী হলেও জিহবা তার চেয়েও অনেক বেশি শক্তিশালী।”

— শাইখ হামজা ইউসুফ

[অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজ, ০৫/০৩/২০১৫]

হাসি ঠাট্টা করার মতন নিশ্চিন্ত কি হতে পারি আমরা?

আমরা হাসি-ঠাট্টা করি, কিন্তু কে জানে– হয়তো আল্লাহ আমাদের কিছু কাজকর্ম দেখে বলছেন: “আমি তোমাদের কাছ থেকে কোনো আমলই গ্রহণ করব না।”

— হাসান আল-বাসরি (রাহিমাহুল্লাহ)

[‘হিলইয়া আল-আউলিয়া’তে আবু নু’আইম-এর ‘আলক্বামা ইবন মারসাদ থেকে বর্ণিত]

জঘন্য পাপগুলোর একটি হলো নিজের পাপকাজগুলোকে ছোট করে দেখা

“একজন বান্দার জন্য সবচেয়ে জঘন্য পাপগুলোর একটি হলো তার নিজের পাপকাজগুলোকে ছোট করে দেখা।”

— মুহাম্মাদ বিন আবু-বকর আস-সিদ্দিক

[আল-মুজালাসাহ, পৃ ৩৯৮]

অসলতা একটি ব্যাধি

“অসলতা একটি ব্যাধি”

— শাইখ আকরাম নদভী

[অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজ, ১২/০২/২০১৫]

মুনাফিক আ’মল কম করে এবং বেশি কথা বলে

“একজন মু’মিন কথা কম বলেন এবং আ’মল বেশি করেন, কিন্তু একজন মুনাফিক আ’মল কম করে এবং বেশি কথা বলে।”

— আল-আউজা’ই

[সিয়ার আ’লাম আন-নুবালা, ১৩/১৪৬]

তুমি কবে কেবল আল্লাহর জন্য তোমার কাজগুলো করবে?

“যখন তোমার বাল্যকাল তখন তুমি অন্য বালক/বালিকদের সাথে খেলাধূলাতে ব্যস্ত থাকো।
যখন তোমার যৌবনকাল তখন তুমি আমোদপ্রমোদে ডুবে থেকে অবহেলায় জীবন কাটাও।
যখন তুমি বার্ধক্যে পৌঁছে যাও তখন তুমি শক্তিহীন দুর্বল হয়ে পড়ো।
তাহলে তুমি কবে কেবল আল্লাহর জন্য তোমার কাজগুলো করবে?”

— আবু আল-লাইস আস-সামারকান্দী

[তানবিহ আল-গাফিলিন, ১/৩৮]

আপনার স্ত্রীর প্রতি উত্তম ব্যবহার করুন

“আপনার নিজের মেয়ের প্রতি যেমন ব্যবহার করা হোক বলে আশা করেন, আপনার স্ত্রীর প্রতি আপনি তেমন ব্যবহার করুন।”

— শাইখ সালিহ আল-উসাইমিন (রহিমাহুল্লাহ)

[আশ-শারহ আল-মুমতি, ১২/৩৮১]

যদি মনে করেন আপনার গুনাহের জন্য আল্লাহ দু’আ কবুল করবেন না

“যদি মনে করেন আপনার গুনাহের জন্য আল্লাহ আপনার দু’আ কবুল করবেন না তাহলে মনে রাখবেন শয়তান যখন আল্লাহর কাছে দীর্ঘ জীবন চেয়েছিলো তখন তার দু’আ কবুল করা হয়েছিলো।”

— ইমাম সুহাইব ওয়েব

[অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজ, ০৮/০২/২০১৫]

যারা আল্লাহর কাছ থেকে দূরে সরে যায় আল্লাহও তাদের থেকে দূরে সরে যান

একজন সালাফ বলেছিলেন:

“যারা সবকিছু থেকে নিজেদের সম্পূর্ণভাবে আল্লাহর দিকে ঘুরিয়ে নেয়, আল্লাহও তাদের দিকে পুরোপুরিভাবে ঘুরে যান। যারা আল্লাহর কাছ থেকে সম্পূর্ণভাবে দূরে সরে যায়, আল্লাহও তাদের কাছ থেকে পুরোপুরিভাবে দূরে সরে যান।”

[হাসাদ : ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম, পৃ ৩০]

অনেক জ্ঞানী ব্যক্তি হলেও স্ত্রীর সামনে এসে হাসিঠাট্টা ও কৌতুক করা উচিত

“যখন একজন জ্ঞানী ব্যক্তি তার স্ত্রীর সাথে থাকে, তখন তার উচিত তার সম্মানিত ‘আলেমসুলভ জ্ঞান-বুদ্ধি কোন একটি কোণায় রেখে দিয়ে খুনসুঁটি, হাসিঠাট্টা ও কৌতুক (শুরু) করা যেন তার স্ত্রীর নিজ প্রাপ্যগুলো পেতে পারে।”

— ইবনে আকীল

[আদাবুশ শারী’আহ, ৩/৩৮৮]

পৃথিবীর জীবনটা তিনটি দিনের

ইমাম আল-হাসান আল-বাসরী বলেছিলেন:

“পৃথিবীর জীবনটা তিনটি দিনের–
গতকালের দিনটিতে যা করা হয়েছে সেগুলো নিয়ে সেটি চলে গেছে;
আগামীকালের দিনটিতে হয়ত আপনি না-ও পৌছতে পারেন;
কিন্তু আজকের দিনটি আপনার জন্য সুতরাং যা করার আজই করে নিন।”

[আল-বায়হাক্বী, আল-যুহদ আল-কাবীর, পৃ ১৯৭]

ভালোবাসার ব্যাপারটায় মেয়েরা ছেলেদের চেয়ে বেশি ভালো

“ভালোবাসার ব্যাপারটায় মেয়েরা ছেলেদের চেয়ে বেশি ভালো। তাই আল্লাহ তাদের মা বানিয়েছেন।”

— শাইখ হামজা ইউসুফ

[অন-ইসলাম.নেট টুইটার, ০৯/০৯/২০১৪]

সম্পদের বৃদ্ধি চাইলে সাদাকাহ করা উচিত

“যদি আকাঙ্ক্ষা করেন আপনার সম্পদ বৃদ্ধি হোক এবং আপনার পাপগুলো ক্ষমা হোক, তাহলে আপনার সাদাকাহ (দান) করা উচিত।”

— শাইখ ইবনে আল-উসাইমিন

[আহকাম-উল-ক্বুরআন, ২/২৯৩]

ইবনে আউন কখনো রাগতেন না

ইমাম আবুল ফারাজ ইবনে আল-জাওযি বলেন:

“ইবনে আউন কখনো রাগতেন না। কেউ যদি তাকে রাগিয়ে তুলতো তাহলে তিনি তাকে বলতেন, “আল্লাহ তোমাকে রহম করুক।”

[তিব্ব আর-রুহানী, পৃ ৫১]

কুরআন আমাকে কী শেখায় জানেন?

“কুরআন আমাকে কী শেখায় জানেন? কুরআন আমাকে শেখায়, বিপুল ঐশ্বর্যশালী ব্যক্তি (ফেরাউন) জীবনে চরমভাবে ব্যর্থ হতে পারে এবং একজন গৃহহীন ব্যক্তি (ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম) পেতে পারেন মহাসাফল্য। কুরআন আমাকে শেখায় সাফল্যের সাথে ধন-সম্পদের এবং ব্যর্থতার সাথে দারিদ্রের কোনই সম্পর্ক নেই”।

— নু’মান আলী খান

[অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ, ০২/১০/২০১৪]

শাসক সিজদায় পড়ে বললেন, হে আমার প্রভু, বাদশাহী তোমারই, আমার নয়

সামানী খান্দানের শাসক নাসর ইবনে আহমাদ (৩০১-৩৩১হিজরি) নিশাপুরে প্রবেশ করলে একটি দরবার ডাকেন এবং সিংহাসনে বসার পর কুরআন মজীদ তিলাওয়াতের মাধ্যমে কাজকর্ম শুরু হবে বলে আদেশ দেন। একথা শুনে একজন সম্মানিত জ্ঞানী ব্যক্তি অগ্রসর হন এবং (সূরা আল-মু’মিন) এই রুকূ’টি তিলাওয়াত করেন। যখন তিনি এ আয়াতটি তিলাওয়াত করছিলেন তখন নাসর ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েন। তিনি কাঁপতে কাঁপতে সিংহাসন থেকে নামলেন এবং মাথার মুকুট খুলে সিজদায় পড়ে বললেনঃ হে আমার প্রভু, বাদশাহী তোমারই, আমার নয়।

[তাফহীমুল কুরআন, সূরা মু’মিন:১৭, টীকা-২৭]

লোকে বিদ’আতে কিছু ভালো খুঁজে পেলেও প্রতিটি বিদ’আতই পথভ্রষ্টতা

“লোকে বিদ’আতে কিছু ভালো খুঁজে পেলেও প্রতিটি বিদ’আতই পথভ্রষ্টতা।”

— আব্দুল্লাহ ইবনে ‘উমার (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)

[আবু শামাহ, ৩৯]

আপনার কথাগুলোতে আল্লাহ নজর রাখছেন

“যখন একজন খুব সম্মানিত মানুষের সাথে আপনি কোথাও বসেন, তখন আপনি খুব সতর্ক থাকেন যাতে আপনি কোন ভুল কথা বলে না ফেলেন। অথচ আপনি জানেন আপনার কথাগুলোতে আল্লাহ নজর রাখছেন এবং তা সত্ত্বেও আপনি যে কথাগুলো বলেন সেগুলো খেয়াল করে বলেন না!”

— হাতিম বিন আল-আ’সিম

[আলদা ওয়া আল দাওয়া – ইবনুল কাইয়্যিম]

যারা আবু বকরকে ঘৃণা করে তারা শ্রেষ্ঠ মুনাফিকদের দলভুক্ত

“আবু বকরের (রাদিয়াল্লাহু আনহু) মত কেউ কোনদিন রাসূলুল্লাহকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ভালোবাসেনি। সুতরাং যারা আবু বকরকে ঘৃণা করে তারা শ্রেষ্ঠ মুনাফিকদের দলভুক্ত।”

— ইমাম ইবনে তাইমিয়া

[আল-মিনহাজ, ৪/৩০০]

বাঘ চলে একাই, একটা ভেড়ার অনেক সঙ্গীসাথী থাকে

“বাঘ চলে একাই, একটা ভেড়ার অনেক সঙ্গীসাথী থাকে।”

— মির্জা ইয়াওয়ার বেগ

[লিডারশিপ লেসনস ফ্রম দি লাইফ অফ রসূলুল্লাহ, পৃ ১৫৯]

আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা প্রতিটি শাস্তিই সম্পূর্ণরূপে ন্যায়বিচার

“তাঁর (আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলার) পক্ষ থেকে আসা প্রতিটি শাস্তিই সম্পূর্ণরূপে ন্যায়বিচার এবং তাঁর পক্ষ থেকে আসা প্রতিটি কল্যাণ পরিপূর্ণভাবে তার দয়া (রাহমাত)।”

— ইমাম ইবনে তাইমিয়া

[মাজমু’ ফাতাওয়া, ১০/৮৫]

আপনারই জ্ঞানের দিকে এগিয়ে যাওয়া উচিত

“‘ইলম (জ্ঞান) আপনার কাছে এগিয়ে আসার কথা নয়, বরং আপনারই ‘ইলমের (জ্ঞানের) দিকে এগিয়ে যাওয়া উচিত।”

— ইমাম মালিক ইবনে আনাস

[আদাব শারি’ইয়্যাহ, ২/১৪৪]

আপনার নিজ অন্তরকে খুঁজে পেতে চেষ্টা করুন তিনটি স্থানে

ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম বলেন:

আপনার নিজ অন্তরকে খুঁজে পেতে চেষ্টা করুন তিনটি স্থানে–

১) যখন কুর’আন তিলাওয়াত শুনবেন,
২) যেসব মজলিশে (আল্লাহর) যিকির হয়,
৩) এবং যখন (একাকী) গোপনে থাকবেন।

এই জায়গাগুলোতে যদি আপনি তা খুঁজে না পান, তাহলে আল্লাহর কাছে দু’আ করুন যেন তিনি আপনাকে একটি অন্তর দান করেন, কেননা আপনার আসলে সেটি নেই।

[ফাওয়াইদুল-ফাওয়াইদ, পৃ ৪৭৯]

আবু বকর (রা) কোনদিন মদ্যপান করেননি

“তিনি (আবু বকর) ছিলেন প্রথম ব্যক্তি যিনি ‘কুরআনকে একত্রিত করেছিলেন। তিনি ইসলাম গ্রহণের আগে জাহিলিয়্যাতের সময়েও কোনদিন মদ (অ্যালকোহল) পান করেননি, পরেও তা করেননি।”

— ইবনে আল-জাওযি

[সিফাতুস সাফওয়াহ, ১/১০৫]

অর্জিত জ্ঞান অনুসারের কাজ করা জরুরী

“আপনি ততদিন পর্যন্ত ‘আলিম (স্কলার) হতে পারবেন না যতদিন পর্যন্ত আপনি মুতা’আল্লিম (ছাত্র) হতে না পারছেন এবং আপনি ততদিন পর্যন্ত মুতা’আল্লিম (ছাত্র) হতে পারবেন না যতদিন আপনার যেটুকু ‘ইলম (জ্ঞান) আছে তদনুযায়ী ‘আমল (কাজ) না করছেন।”

— আবুদ দারদা আল-আনসারী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)

[ইকতিদাউল ‘ইলমি আল-‘আমাল, ২৯]

যার আচরণ সুন্দর নয়, তার কোন সৌন্দর্যই নেই

“সবচেয়ে বেশি সৌন্দর্য রয়েছে সুন্দর আচরণের মাঝে। যার আচরণ সুন্দর নয়, তার কোন সৌন্দর্যই নেই।”

— ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে হিব্বান

[আর-রাওদাহ, পৃ ২২২০]

দুঃখ-দুর্দশার ব্যাপারে আল্লাহর কাছে অভিযোগ করা উচিত

“যে ব্যক্তি কোন দুঃখ-দুর্দশার ব্যাপারে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো কাছে অভিযোগ করে, সে ইবাদাতের মিষ্টতা অনুভব করতে পারে না।”

— শাকীক আল-বলখী

[আস-সিয়ার, ৯/৩১৫]

 

আল্লাহর কাছে আপনি প্রার্থনা করা বন্ধ করে দিলে তিনি রাগান্বিত হন

“আল্লাহর কাছে আপনি প্রার্থনা করা বন্ধ করে দিলে তিনি রাগান্বিত হন।
অথচ আদম সন্তানের কাছে কিছু প্রার্থনা করলে সে রেগে যায়।”

— ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ)

[মাদারিজ আল-সালিকিন, ২/৯৮]

আল্লাহ আদমের শ্রেষ্ঠত্বের প্রকাশ করেছিলেন জ্ঞানের মাধ্যমে

“আল্লাহ আদমের শ্রেষ্ঠত্বের প্রকাশ করেছিলেন ‘ইলমের (জ্ঞানের) মাধ্যমে। বান্দা যেসব মহৎ গুণাবলী ধারণ করতে পারে সেগুলোর মধ্যে ‘ইলম অন্যতম।”

— শাইখ আবদুর-রহমান আস-সাদী

[তাইসির-উল-কারিম, পৃ ৪৯]

ইমাম আবু হানিফার রসবোধ

ইমাম আবু হানিফা তার ‘ইলম (জ্ঞান) এবং ‘আমালের জন্য তো বটেই, তিনি তার রসিকতাবোধের জন্যেও সুপরিচিত ছিলেন। একদিন এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করলো, “হে ইমাম! যখন আমি নদীতে গোসল করি, তখন কি আমি কিবলার দিকে মুখ করবো নাকি কিবলা থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখবো?

ইমাম আবু হানিফা গম্ভীরভাবে উত্তর দিলেন, “আমি যদি আপনার জায়গায় থাকতাম তাহলে আমি আমার কাপড়গুলোর দিকে মুখ ফিরিয়ে থাকতাম যেন কেউ সেগুলো নিয়ে দৌড়ে পালাতে না পারে।”

[ইসলামিক অনলাইন ইউনিভার্সিটি ফেসবুক পেজ, ১৬/১০/২০১৪]

কথোপকথনে বিনয়ী হওয়াটা আবশ্যক

“কারো সাথে কথোপকথনে বিনয়ী হওয়াটা একজন ব্যক্তির জন্য আবশ্যক।”

— ইমাম আল-কুরতুবী (রহিমাহুল্লাহ)

[আল-জামি লি-আহকাম ইল-কুরআন, ২/১৬]

আল্লাহ যেন ঐ বান্দার প্রতি রহম করেন

উমার বিন আব্দুল আযীযের (রহিমাহুল্লাহ) কাছে খবর পৌঁছল যে তাঁর ছেলে ১০০০ দিরহাম দিয়ে একটি আংটি কিনেছে। খলিফা উমার বিন আব্দুল আযীয সাথে সাথে ছেলের কাছে চিঠি লিখলেন–

“আমার কাছে খবর এসেছে তুমি ১০০০ দিরহাম দিয়ে একটি পাথরের টুকরা কিনেছ। তুমি যখনই আমার চিঠি পাবে, তখনই আংটিটি বিক্রি করে দিবে। বিক্রয়কৃত টাকা দিয়ে তুমি ১০০০ অভুক্ত মানুষকে পেট ভরে খাওয়াবে এবং তারপর ২ দিরহামের একটি লোহার আংটি কিনবে যাতে লিখবে–

“আল্লাহ যেন ঐ বান্দার প্রতি রহম করেন, যে তার নিজের মূল্যের ব্যাপারে খেয়াল রাখে”।

[মাদারিজ আল-সালিকিন]

আমার সবচেয়ে পছন্দের নামগুলো

আমার সবচেয়ে পছন্দের নামগুলো হলো আব্দুল্লাহ এবং আবদুল রাহমান। আমার ছেলে আবদুর রাহমান একটি দুর্ঘটনায় মারা যাওয়ার পরে আমি অপর একটি সন্তানের নাম রেখেছিলাম আবদুর রাহমান।

— ড সালমান আল-ওদাহ

[ফেসবুক পেজ, ০১ /১০/১৪]

মুসলিম ভাইয়ের কথার ব্যাপারে উত্তম ধারণা রাখা

“যতক্ষণ তোমার ভাইয়ের বলা কোন কথার ব্যাপারে তোমার কাছে ভালো কোন ব্যাখ্যা আছে ততক্ষণ তা নিয়ে কোন খারাপ ধারণা পোষণ করবে না।”

— উমার ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)

[মাজমু’ ফাতাওয়া, বিন বাজ, ২৬/৩৬৫]

অনেকে তার যা আছে তাও হারায়

“হাতের কাছে থাকা সত্ত্বেও অনেকে এই মহাগ্রন্থের দিকে ফিরেও তাকায় না, অনেকে এর দরজায় গিয়েও ফিরে যায়। অনেকেই পড়ে কিন্তু সত্যিকার অর্থে কুরআনের গভীরে প্রবেশ করে না। অনেকে সন্ধান পায় কিন্তু হারিয়ে ফেলে। তারা আল্লাহর শব্দের মধ্যেও আল্লাহকে শুনতে পায় না। আল্লাহর পরিবর্তে তারা নিজেদের কণ্ঠ, নিজেদের শব্দই শুনতে পায়। অনেকে আল্লাহর বাণী শুনতে পায় কিন্তু আল্লাহর ডাকে সাড়া দেওয়ার মত ইচ্ছাশক্তি, দৃঢ়তা, সাহস এবং আল্লাহর পথে চলার শক্তি অর্জনে তারা ব্যর্থ হয়। অনেকে তার যা আছে তাও হারায়, জীবনের মূল্যবান নুড়ি আহরণের পরিবর্তে হাড়ভাংগা পাথরের স্তুপ নিয়ে ফেরে, যা থেকে সারাটি জীবন আঘাতই পেয়ে থাকে।”

— উস্তায খুররম মুরাদ (রহিমাহুল্লাহ)

[কুরআন অধ্যয়ন সহায়িকা, পৃষ্ঠা-২৯]

বৈষম্যের কারণ

হযরত উমারের যুগে যখন সকল সাহাবীর ভাতা নির্ধারিত হয়, তখন ইবনে উমারের ভাতা নির্ধারিত হয় আড়াই হাজার দিরহাম। পক্ষান্তরে উসামা ইবন যায়িদের ভাতা নির্ধারিত হয় তিন হাজার দিরহাম। ইবন উমার পিতা উমার (রা) -এর নিকট এ বৈষম্যের প্রতিবাদ করে বলেন, কোন ক্ষেত্রেই যখন আমি তার থেকে এবং আপনি তার পিতা থেকে পিছিয়ে নেই, তখন এই বৈষম্যের কারণ কি? উমার (রা) বলেন, সত্যই বলেছ। তবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার পিতাকে তোমার পিতা থেকে এবং তাঁকে তোমার থেকে বেশি ভালোবাসতেন। জবাব শুনে ইবন উমার (রা) চুপ হয়ে যান।

[আসহাবে রাসূলের জীবনকথা (২) – মুহাম্মদ আবদুল মাবুদ]

দানশীলা নারী

আসমা বিনতু আবু বকরের (রাদিয়াল্লাহু আনহা)মধ্যে সততা, দানশীলতা, মহত্ব ও প্রখর বুদ্ধিমত্তার মত এমন সব সুষম চারিত্রিক গুণাবলীর সমন্বয় ঘটেছিল যা ছিল বিরল। তার দানশীলতা তো একটি প্রবাদে পরিণত হয়েছিল। তার ছেলে আবদুল্লাহ বলেন:

“আমি আমার মা আসমা ও খালা আয়িশা থেকে অধিক দানশীলা কোন নারী দেখিনি। তবে তাঁদের দু’জনের দান প্রকৃতির মধ্যে প্রভেদ ছিল। আমার খালার স্বভাব ছিল, প্রথমতঃ তিনি বিভিন্ন জিনিস একত্র করতেন। যখন দেখতেন, যে যথেষ্ট পরিমাণ জমা হয়ে গেছে, তখন হঠাৎ করে একদিন তা সবই গরীব মিসকীনদের মধ্যে বিলিয়ে দিতেন। কিন্তু আমার মা’র স্বভাব ছিল ভিন্নরূপ। তিনি আগামীকাল পর্যন্ত কোন জিনিস নিজের কাছে জমা করে রাখতেন না।”

[আসহাবে রাসূলের জীবনকথা-১ , মুহাম্মাদ আবদুল মাবুদ]

আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কোন কিছুকে ত্যাগ করার বিনিময়

“আপনি যদি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কোন কিছুকে ত্যাগ করেন, তাহলে আল্লাহ তার পরিবর্তে আপনাকে এমন কিছু দান করবেন যা পাওয়ার কথা আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না।”

— ড. বিলাল ফিলিপস

[ফেসবুক পেজ, ২৯/০৯/২০১৪]

সত্য কথা বলতে ইবনে উমার কখনো ভয় পেতেন না

সত্য কথা বলতে আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রাদিয়াল্লাহু আনহু) কখনো ভয় পেতেন না।

একবার হাজ্জাজ খুতবা দিচ্ছিলেন। ইবন উমার তাকে লক্ষ্য করে বললেন:
“এই লোকটি আল্লাহর দুশমন। সে মক্কার হারামের অবমাননা করেছে, বাইতুল্লাহ ধ্বংস করেছে এবং আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের হত্যা করেছে।”

[আসহাবে রাসূলের জীবনকথা-২ , মুহাম্মাদ আবদুল মাবুদ]

খুব খেয়াল করে ছবি বাছাই করুন

“একটি প্রোফাইল পিকচার আমাদের সম্পর্কে অনেক কথা বলে দেয়, বুঝিয়ে দেয় আমরা কীসের পক্ষে এবং কোন জিনিসের প্রচার করি। খুব খেয়াল করে ছবি বাছাই করুন।”

— মুফতি ইসমাইল মেংক

[ইসলামিক অনলাইন ইউনিভার্সিটি ফেসবুক পেজ, ২২/০৯/২০১৪]

যে জাতি ইতিহাসকে উপেক্ষা করে তার অবস্থা স্মৃতিভ্রংশ মানুষের সাথে তুলনীয়

“ইতিবাচক ও নেতিবাচক, জয় ও পরাজয় তথা সকল বিষয় সমন্বিত একটি জাতির ইতিহাস হচ্ছে সমৃদ্ধ খনির মতো যা থেকে সম্পদ আহরণ করে একটি জাতি তার বর্তমান গড়ে তোলে। যে জাতি ইতিহাসকে উপেক্ষা করে তার অবস্থা স্মৃতিভ্রংশ মানুষের সাথে তুলনীয়, যার কোনো মূল বা দিক-দর্শন নেই।”

— ড. ইউসুফ আল কারাদাওয়ি.

[ইসলামী পুনর্জাগরণঃ সমস্যা ও সম্ভাবনা, পৃ ৬৭]

দানশীল তালহা

হযরত তালহা বিন উবাইদুল্লাহ (রা) ছিলেন একজন বিত্তশালী ব্যবসায়ী। কিন্তু সম্পদ পুঞ্জীভূত করার লালসা তার ছিলোনা। তার দানশীলতার বহু কাহিনী ইতিহাসে পাওয়া যায়। ইতিহাসে তাকে “দানশীল তালহা” বলে উল্লেখ করা হয়েছে। একবার হাদরামাউত থেকে সত্তর হাজার দিরহাম এলো তার হাতে। রাতে তিনি বিমর্ষ এবং উৎকন্ঠিত হয়ে পড়লেন। তার স্ত্রী হযরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু এর কন্যা উম্মু কুলসুম স্বামীর এ অবস্থা দেখে জিজ্ঞেস করলেনঃ

– আবু মুহাম্মাদ, আপনার কী হয়েছে? মনে হয় আমার কোন আচরণে আপনি কষ্ট পেয়েছেন।

– না, একজন মুসলমান পুরুষের স্ত্রী হিসেবে তুমি বড় চমতকার। কিন্তু সেই সন্ধ্যা থেকে আমি চিন্তা করছি, এত অর্থ ঘরে রেখে ঘুমালে একজন মানুষের তার পরওয়ারদিগারের প্রতি কীরূপ ধারণা হবে?

– এতে আপনার বিষণ্ণ ও চিন্তিত হওয়ার কী আছে? এত রাতে গরীব-দুখী ও আপনার আত্মীয় পরিজনদের কোথায় পাবেন? সকাল হলেই বন্টন করে দেবেন।

– আল্লাহ তোমার ওপর রহম করুন। একেই বলে, বাপ কি বেটী।

পরদিন সকালবেলা ভিন্ন ভিন্ন থলি ও পাত্রে সকল দিরহাম ভাগ করে মুহাজির ও আনসারদের গরীব মিসকীনদের মধ্যে তিনি বন্টন করে দেন।

[আসহাবে রাসূলের জীবনকথা (প্রথম খন্ড)- মুহাম্মদ আবদুল মাবুদ]

ইলম তাদের জন্যই উপলভ্য রয়েছে যারা এটাকে খুঁজে পেতে চায়

“জ্ঞান (‘ইলম) হলো তীরবিহীন এক সমুদ্র যা গোটা উম্মাহর মাঝে বন্টন করে দেয়া হয়েছে। ‘ইলম তাদের জন্যই উপলভ্য রয়েছে যারা এটাকে খুঁজে পেতে চায়।”

— ইমাম আয-যাহাবী (রাহিমাহুল্লাহ)

[সিয়ার আ’লাম আন-নুবালা, ৬৮/১২]

খারাপ স্মৃতিশক্তি থেকে উত্তরণের সমাধান

বর্ণিত আছে, আল-শাফা’ই (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন:

“আমি (আমার শাইখ) ওয়াকীকে আমার খারাপ স্মৃতিশক্তির ব্যাপারে অভিযোগ করেছিলাম এবং তিনি শিখিয়েছিলেন আমি যেন পাপকাজ থেকে নিজেকে দূরে রাখি।

তিনি বলেন, আল্লাহর জ্ঞান হলো একটি আলো এবং আল্লাহর আলো কোন পাপচারীকে দান করা হয় না।”

[শাইখ মুহাম্মাদ সালিহ আল মুনাজ্জিদ, ইসলামকিউএ/৩৩২৮]

বুদ্ধিবৃত্তিক সন্ত্রাস শারীরিক সন্ত্রাসের চেয়েও ভয়ঙ্কর

“বুদ্ধিবৃত্তিক সন্ত্রাস শারীরিক সন্ত্রাসের চেয়েও ভয়ঙ্কর।”

— ড. ইউসুফ আল কারাদাওয়ি

[ইসলামী পুনর্জাগরণঃ সমস্যা ও সম্ভাবনা, পৃ ৩০]​

প্রশংসাকারীর মুখে মাটি ছুঁড়ে মারো

বিনয় ও নম্রতা আব্দুল্লাহ ইবন উমারের (রা) চরিত্রের বিশেষ বৈশিষ্ট্য ছিল। নিজের প্রশংসা শুনতে তিনি ভীষণ অপছন্দ করতেন। এক ব্যক্তি তার প্রশংসা করছিল। তিনি তার মুখে মাটি ছুঁড়ে মারলেন। অতঃপর তাকে রাসূলুল্লাহর (সা) এ হাদীস — প্রশংসাকারীর মুখে মাটি ছুঁড়ে মারো — শুনিয়ে দিলেন। কোন বাছ-বিচার না করে ছোট বড় সকলকে সালাম করতেন। পথ চলতে কোন ব্যক্তিকে সালাম করতে ভুলে গেলে ফিরে এসে তাকে সালাম করে যেতেন। অত্যন্ত কটু কথা শুনেও হজম করে যেতেন, কোন জবাব দিতেন না। এক ব্যক্তি কটু ভাষায় তাকে গালি দিল। জবাবে তিনি শুধু বললেন, আমি ও আমার ভাই অত্যন্ত উঁচু বংশের। এতটুকু বলে চুপ থাকলেন।

[আসহাবে রাসূলের জীবনকথা (২) – মুহাম্মদ আবদুল মাবুদ]

দানশীলতা ও উদারতা

হযরত তালহা বিন উবাইদুল্লাহর (রা) দানশীলতা সম্পর্কে একটি ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। এক ব্যক্তি হযরত তালহার নিকট এসে তার সাথে আত্মীয়তার সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে কিছু সাহায্য চাইলো। তালহা বললেনঃ অমুক স্থানে আমার একখন্ড জমি আছে। উসমান ইবনে আফফান উক্ত জমির বিনিময়ে আমাকে তিন লাখ দিরহাম দিতে চান। তুমি ইচ্ছে করলে সেই জমিটুকু নিতে পারো বা আমি তা বিক্রি করে তিন লাখ দিরহাম তোমাকে দিতে পারি। লোকটি মূল্যই নিতে চাইলো। তিনি তাকে বিক্রয়লব্ধ সমুদয় অর্থ দান করেন।

[আসহাবে রাসূলের জীবনকথা (প্রথম খন্ড)- মুহাম্মদ আবদুল মাবুদ]

Follow

Get every new post delivered to your Inbox.

Join 13,017 other followers