Category Archives: আবদুল্লাহ ইবনে উমার

লোকে বিদ’আতে কিছু ভালো খুঁজে পেলেও প্রতিটি বিদ’আতই পথভ্রষ্টতা

“লোকে বিদ’আতে কিছু ভালো খুঁজে পেলেও প্রতিটি বিদ’আতই পথভ্রষ্টতা।”

— আব্দুল্লাহ ইবনে ‘উমার (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)

[আবু শামাহ, ৩৯]

Advertisements

বৈষম্যের কারণ

হযরত উমারের যুগে যখন সকল সাহাবীর ভাতা নির্ধারিত হয়, তখন ইবনে উমারের ভাতা নির্ধারিত হয় আড়াই হাজার দিরহাম। পক্ষান্তরে উসামা ইবন যায়িদের ভাতা নির্ধারিত হয় তিন হাজার দিরহাম। ইবন উমার পিতা উমার (রা) -এর নিকট এ বৈষম্যের প্রতিবাদ করে বলেন, কোন ক্ষেত্রেই যখন আমি তার থেকে এবং আপনি তার পিতা থেকে পিছিয়ে নেই, তখন এই বৈষম্যের কারণ কি? উমার (রা) বলেন, সত্যই বলেছ। তবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার পিতাকে তোমার পিতা থেকে এবং তাঁকে তোমার থেকে বেশি ভালোবাসতেন। জবাব শুনে ইবন উমার (রা) চুপ হয়ে যান।

[আসহাবে রাসূলের জীবনকথা (২) – মুহাম্মদ আবদুল মাবুদ]

সত্য কথা বলতে ইবনে উমার কখনো ভয় পেতেন না

সত্য কথা বলতে আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রাদিয়াল্লাহু আনহু) কখনো ভয় পেতেন না।

একবার হাজ্জাজ খুতবা দিচ্ছিলেন। ইবন উমার তাকে লক্ষ্য করে বললেন:
“এই লোকটি আল্লাহর দুশমন। সে মক্কার হারামের অবমাননা করেছে, বাইতুল্লাহ ধ্বংস করেছে এবং আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের হত্যা করেছে।”

[আসহাবে রাসূলের জীবনকথা-২ , মুহাম্মাদ আবদুল মাবুদ]

প্রশংসাকারীর মুখে মাটি ছুঁড়ে মারো

বিনয় ও নম্রতা আব্দুল্লাহ ইবন উমারের (রা) চরিত্রের বিশেষ বৈশিষ্ট্য ছিল। নিজের প্রশংসা শুনতে তিনি ভীষণ অপছন্দ করতেন। এক ব্যক্তি তার প্রশংসা করছিল। তিনি তার মুখে মাটি ছুঁড়ে মারলেন। অতঃপর তাকে রাসূলুল্লাহর (সা) এ হাদীস — প্রশংসাকারীর মুখে মাটি ছুঁড়ে মারো — শুনিয়ে দিলেন। কোন বাছ-বিচার না করে ছোট বড় সকলকে সালাম করতেন। পথ চলতে কোন ব্যক্তিকে সালাম করতে ভুলে গেলে ফিরে এসে তাকে সালাম করে যেতেন। অত্যন্ত কটু কথা শুনেও হজম করে যেতেন, কোন জবাব দিতেন না। এক ব্যক্তি কটু ভাষায় তাকে গালি দিল। জবাবে তিনি শুধু বললেন, আমি ও আমার ভাই অত্যন্ত উঁচু বংশের। এতটুকু বলে চুপ থাকলেন।

[আসহাবে রাসূলের জীবনকথা (২) – মুহাম্মদ আবদুল মাবুদ]

তিনি এমনই সরল ও অনাড়ম্বর জীবন যাপন করতেন

ইবনে উমারের জীবনীতে আমরা দেখতে পাই, তাঁর আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত স্বচ্ছল ছিল। হাজার হাজার দিরহাম একই বৈঠকে ফকীর-মিসকীনদের মধ্যে বিলিয়ে দিতেন। কিন্ত তার নিজের ঘরের আসবাবপত্রের মোট মূল্য একশ দিরহামের বেশি ছিলনা। মায়মূন ইবন মাহরান বলেন, “আমি ইবন উমারের ঘরে প্রবেশ করে লেপ, তোষক, বিছানাপত্র ইত্যাদির দাম হিসাব করলাম। সব মিলিয়ে একশ দিরহামের বেশি হলনা।” তিনি এমনই সরল ও অনাড়ম্বর জীবন যাপন করতেন। নিজের কাজ তিনি নিজ হাতে করতেন। নিজের কাজে অন্য কারো সাহায্য গ্রহণ তাঁর মনঃপুত ছিলনা।

[আসহাবে রাসূলের জীবনকথা (২) – মুহাম্মদ আবদুল মাবুদ]

কাজগুলো আমাকে একটুও উপকৃত করবে না

” আল্লাহর শপথ! যদি আমি না খেয়ে সারাদিন রোযা রাখি, সারারাত না ঘুমিয়ে সলাতে দাঁড়িয়ে থাকি, আমার সমস্ত সম্পদ আল্লাহর পথে ব্যয় করি; এরপর যদি যারা আল্লাহকে মেনে চলেন এমন মানুষদের প্রতি অন্তরে ভালোবাসা না রেখে এবং যারা আল্লাহর অবাধ্য তাদের প্রতি অন্তরে ঘৃণা না রেখে মারা যাই ; সেই কাজগুলো আমাকে একটুও উপকৃত করবে না।”
— আবদুল্লাহ বিন উমার (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)

পৃথিবীর আর কোন কিছুকে ছেড়ে যেতে আমি দুঃখবোধ করি না

মৃত্যুশয্যায় আব্দুল্লাহ ইবনে উমার (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেছিলেনঃ

“গ্রীষ্মের উত্তপ্ত দিনগুলোতে সাওম পালন করা এবং রাতের বেলা সলাতে দাঁড়িয়ে থাকা ছাড়া এই পৃথিবীর আর কোন কিছুকে ছেড়ে যেতে আমি দুঃখবোধ করি না।”

[আত-তাবাকাত, ইবনে সা’দ]