Category Archives: আখলাক – উত্তম আচরণ

খাদীজা (রা) ছিলেন একজন অতুলনীয় নারী

ইসলাম গ্রহণের পর হযরত খাদীজা তাঁর সকল ধন-সম্পদ তাবলীগে দ্বীনের লক্ষ্যে ওয়াকফ করেন। রাসূল সা. ব্যবসা-বাণিজ্য ছেড়ে আল্লাহর ইবাদাত এবং ইসলাম প্রচারে আত্মনিয়োগ করেন। সংসারের সকল আয় বন্ধ হয়ে যায়। সেই সাথে বাড়তে থাকে খাদীজার দুশ্চিন্তা। তিনি ধৈর্য ও সহনশীলতার সাথে সব প্রতিকূল অবস্থার মুকাবিলা করেন। আল–ইসতিয়াব গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে, ‘মুশরিকদের প্রত্যাখ্যান ও অবিশ্বাসের কারণে রাসূল সা. যে ব্যথা অনুভব করতেন, খাদীজার কাছে এলে তা দূর হয়ে যেত। কারণ, তিনি রাসূলকে সা. সান্ত্বনা দিতেন, সাহস ও উৎসাহ যোগাতেন। তাঁর সব কথাই তিনি বিনা দ্বিধায় বিশ্বাস করতেন। মুশরিকদের সকল অমার্জিত আচরণ তিনি রাসূলুল্লাহর সা. কাছে অত্যন্ত হালকা ও তুচ্ছভাবে তুলে ধরতেন।’

[আসহাবে রাসূলের জীবনকথা – প্রথম খণ্ড – ড. আব্দুল মা’বুদ]

Advertisements

ইবনে আউন কখনো রাগতেন না

ইমাম আবুল ফারাজ ইবনে আল-জাওযি বলেন:

“ইবনে আউন কখনো রাগতেন না। কেউ যদি তাকে রাগিয়ে তুলতো তাহলে তিনি তাকে বলতেন, “আল্লাহ তোমাকে রহম করুক।”

[তিব্ব আর-রুহানী, পৃ ৫১]

যার আচরণ সুন্দর নয়, তার কোন সৌন্দর্যই নেই

“সবচেয়ে বেশি সৌন্দর্য রয়েছে সুন্দর আচরণের মাঝে। যার আচরণ সুন্দর নয়, তার কোন সৌন্দর্যই নেই।”

— ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে হিব্বান

[আর-রাওদাহ, পৃ ২২২০]

কথোপকথনে বিনয়ী হওয়াটা আবশ্যক

“কারো সাথে কথোপকথনে বিনয়ী হওয়াটা একজন ব্যক্তির জন্য আবশ্যক।”

— ইমাম আল-কুরতুবী (রহিমাহুল্লাহ)

[আল-জামি লি-আহকাম ইল-কুরআন, ২/১৬]

মুসলিম ভাইয়ের কথার ব্যাপারে উত্তম ধারণা রাখা

“যতক্ষণ তোমার ভাইয়ের বলা কোন কথার ব্যাপারে তোমার কাছে ভালো কোন ব্যাখ্যা আছে ততক্ষণ তা নিয়ে কোন খারাপ ধারণা পোষণ করবে না।”

— উমার ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)

[মাজমু’ ফাতাওয়া, বিন বাজ, ২৬/৩৬৫]

সত্য কথা বলতে ইবনে উমার কখনো ভয় পেতেন না

সত্য কথা বলতে আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রাদিয়াল্লাহু আনহু) কখনো ভয় পেতেন না।

একবার হাজ্জাজ খুতবা দিচ্ছিলেন। ইবন উমার তাকে লক্ষ্য করে বললেন:
“এই লোকটি আল্লাহর দুশমন। সে মক্কার হারামের অবমাননা করেছে, বাইতুল্লাহ ধ্বংস করেছে এবং আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের হত্যা করেছে।”

[আসহাবে রাসূলের জীবনকথা-২ , মুহাম্মাদ আবদুল মাবুদ]

প্রশংসাকারীর মুখে মাটি ছুঁড়ে মারো

বিনয় ও নম্রতা আব্দুল্লাহ ইবন উমারের (রা) চরিত্রের বিশেষ বৈশিষ্ট্য ছিল। নিজের প্রশংসা শুনতে তিনি ভীষণ অপছন্দ করতেন। এক ব্যক্তি তার প্রশংসা করছিল। তিনি তার মুখে মাটি ছুঁড়ে মারলেন। অতঃপর তাকে রাসূলুল্লাহর (সা) এ হাদীস — প্রশংসাকারীর মুখে মাটি ছুঁড়ে মারো — শুনিয়ে দিলেন। কোন বাছ-বিচার না করে ছোট বড় সকলকে সালাম করতেন। পথ চলতে কোন ব্যক্তিকে সালাম করতে ভুলে গেলে ফিরে এসে তাকে সালাম করে যেতেন। অত্যন্ত কটু কথা শুনেও হজম করে যেতেন, কোন জবাব দিতেন না। এক ব্যক্তি কটু ভাষায় তাকে গালি দিল। জবাবে তিনি শুধু বললেন, আমি ও আমার ভাই অত্যন্ত উঁচু বংশের। এতটুকু বলে চুপ থাকলেন।

[আসহাবে রাসূলের জীবনকথা (২) – মুহাম্মদ আবদুল মাবুদ]

উত্তম চরিত্রের মানুষ ছাড়া অন্যদের সাথে মেলামেশা করবেন না

“উত্তম চরিত্রের মানুষ ছাড়া অন্যদের সাথে মেলামেশা করবেন না; কেননা যার চরিত্র উত্তম তিনি যা কিছু বয়ে আনেন তা শুধুই উত্তম, অন্যদিকে যার চরিত্র খারাপ সে যা বয়ে আনে তা শুধুই খারাপ।”

— আল-ফুদাইল ইবনে ইয়াদ (রাহিমাহুল্লাহ)

[আল-বায়হাকী, শু’আব আল-ইমান, ৮৭০৪৪]

উত্তম আচরণ

“কখনো কখনো কোন মানুষ আমার কাছে এসে এমন হাদিস বর্ণনা করে যা আমি তার মা তাকে জন্ম দেওয়ার আগে থেকে জানি। তবুও উত্তম আচরণ হিসেবে সে যা বলে তা আমি শুনি (যেন আমি আগে তা শুনিনি)।”

— ইমাম সুফিয়ান আস-সাওরি (রাহিমাহুল্লাহ)

[তারিখ দিমাশক, ৫/৬৬]

রাসূল (সা) কোনদিন কোন ভৃত্য অথবা কোন মহিলার গায়ে হাত তোলেননি

​আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেন:

“আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কোনদিন কোন ভৃত্য অথবা কোন মহিলার গায়ে হাত তোলেননি।”

[সুনান আবু দাউদ, ৪৭৮৬]

উত্তম চরিত্র সবসময় একটি প্রশ্ন দিয়ে শুরু হয়

উত্তম চরিত্র সবসময় একটি প্রশ্ন দিয়ে শুরু হয়, “আমি কাজটি কেন করছি?”

— তারিক রামাদান

নরম-কোমল কথামালা পাথরের চাইতে কঠিন হৃদয়কেও কোমল করে দেয়

“নরম-কোমল কথামালা পাথরের চাইতে কঠিন হৃদয়কেও কোমল করে দেয়,
কর্কশ-কঠিন কথাবার্তা রেশমের চাইতে কোমল হৃদয়কেও কঠিন করে দেয়।”

— ইমাম গাজ্জালী (রাহিমাহুল্লাহ)