Category Archives: তাযকিয়া – আত্মশুদ্ধি

দশটি ব্যাপারে তোমাদের অন্তর মরে গেছে

একদিন ইব্রাহিম ইবনে আদহাম (রহিমাহুল্লাহ) বসরা শহরের একটি বাজারের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। লোকজন তার পাশে সমবেত হয়ে জিজ্ঞাস করল: হে আবু ইসহাক ! আল্লাহ সুবহানাহু তা’আলা কুরআনে বলেন: “আমাকে ডাক, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দিব।” কিন্তু আমরা অনেক দিন ধরে দোয়া করছি অথচ আল্লাহ আমাদের দোয়ার সাড়া দিচ্ছেন না।

ইব্রাহিম বিন আদহাম বললেন, “ওহে বসরার অধিবাসী, দশটি ব্যাপারে তোমাদের অন্তর মরে গেছে:

১) তোমরা আল্লাহর সম্পর্কে জানো কিন্তু তার প্রতি তোমাদের কর্তব্যগুলো পালন করো না।
২) তোমরা কুরআন পড়ো ঠিকই কিন্তু সে অনুযায়ী আমল কর না।
৩) তোমরা দাবী কর যে রাসূলুল্লাহকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ভালবাসো কিন্তু তার সুন্নাতকে অবহেলা করো।
৪) তোমরা নিজেদেরকে শয়তানের শত্রু হিসাবে দাবী কর কিন্তু তোমরা তারই পদাংক অনুসরন কর।
৫) তোমার জান্নাতে যেতে উদগ্রীব কিন্তু তার জন্য পরিশ্রম করো না।
৬) তোমরা জাহান্নামের ভয়ে আতঙ্কিত কিন্তু পাপের ম্যাধমে প্রতিনিয়ত তার নিকটবর্তী হচ্ছো।
৭) তোমরা স্বীকার করো মৃত্যু অনিবার্য কিন্তু তার জন্য নিজেকে প্রস্তুত কর না।
৮) তোমরা সবসময়ে অন্যের দোষ বের করতে সচেষ্ট কিন্তু নিজের দোষ-ত্রুটির ব্যাপারে খেয়াল রাখো না।
৯) তোমরা আল্লাহর নিয়ামত উপভোগ করো কিন্তু তার জন্য শুকরিয়া আদায় কর না।
১০) তোমরা মৃতের লাশকে দাফন করো কিন্তু তা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করো না।”

[আবু নুয়াইম, হিলিইয়া আল-আউলিয়া ৮: ১৫,১৬]

Advertisements

দাম্ভিক ও অহংকারী কারা?

“জেনে রাখো — যে কোন ব্যক্তি নিজেকে আল্লাহর কোন মাখলুকের তুলনায় উত্তম মনে করবে, সে-ই দাম্ভিক; অহংকারী। বস্তুতঃ তোমার এ কথা মনে রাখা উচিত, যে ব্যক্তি আখিরাতের জীবনে আল্লাহর কাছে ভালো, সে-ই প্রকৃত ভালো। আর এটা এমন এক বিষয়, যা অদৃশ্য এবং জীবনের শেষ মূহুর্তের উপর নির্ভরশীল। অতএব, তোমার নিজেকে অন্যের তুলনায় উত্তম মনে করা নিতান্ত মূর্খতা ছাড়া কিছু নয়।”

— ইমাম আবু হামিদ আল-গাজ্জালী (রাহিমাহুল্লাহ)

[বিদায়াতুল হিদায়াহ : ইমাম আল-গাজ্জালী , প্রকাশক: দারুল কিতাব, পৃ-৯৫]​

অহংকার ও দাম্ভিকতা দূর করার জন্য ইমাম গাজ্জালীর সদুপদেশ

“যখন কোনো শিশুকে দেখ, তখন বলবে–এই শিশু আল্লাহর কোন নাফরমানী করে নাই; কিন্তু আমি করেছি, অতএব, সে আমার চেয়ে ভাল। কোন বয়ঃবৃদ্ধ লোককে দেখে বলবে–এই ব্যক্তি আমার আগে থেকেই আল্লাহর বন্দেগী করে আসছে, অতএব, সে অবশ্যই আমার চেয়ে ভাল। যদি কোনো আলেম ব্যক্তিকে দেখ, তাহলে বলবে–সে যা কিছু পেয়েছে, আমি তা পাই নাই; সে যে মর্যাদায় পৌঁছেছে, আমি সেখানে পৌঁছাতে পারি নাই; সে বিদ্বান, আমি মূর্খ; তাহলে কি করে আমি তাঁর সমকক্ষ হতে পারি? যদি সে মূর্খ হয়, তাহলে বলবে–এই লোকটি না-ফরমানী করে থাকলে অজ্ঞতাবশতঃ করেছে, আর আমি আল্লাহর না-ফরমানী করেছি জেনে শুনে, সুতরাং আল্লাহর শাস্তি আমার ক্ষেত্রে অধিকতর প্রযোজ্য; আমি জানিনা, শেষ পরিণতি কার ভাল হয়; আমারই না তার। যদি তুমি কোন কাফির ব্যক্তির প্রতি দৃষ্টিপাত কর, তাহলে বল; আমি জানিনা, হয়তো বা সে মুসলমান হয়ে যাবে এবং তার জীবনাবসান নেক আমলের মধ্য দিয়ে হবে এবং ইসলাম গ্রহণের ওসীলায় তার সকল পূর্ব গুনাহ মাফ হয়ে যাবে… আর আমি–খোদা না করুন–গোমরাহ হয়ে যেতে পারি, যার ফলে কুফর-শিরক ও পাপে লিপ্ত হয়ে আমার মৃত্যু হতে পারে; সুতরাং পরিণামে সে হয়তঃ আল্লাহর নৈকট্য লাভ করবে আর আমি শাস্তি ভোগকারীদের দলভুক্ত হয়ে যাব।”

— ইমাম আল-গাজ্জালি (রাহিমাহুল্লাহ)

[বিদায়াতুল হিদায়াহ, অনুবাদ: মুফতী মুহাম্মদ উবাইদুল্লাহ, প্রকাশক: দারুল কিতাব, পৃষ্ঠা ৯৫]

নিয়্যাত তো সবসময় পরিবর্তন হতে থাকে

“নিয়্যাতের চেয়ে অন্য কোন কিছুর প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখা আমার কাছে বেশি কঠিন মনে হয়নি, কেননা নিয়্যাত তো সবসময় পরিবর্তন হতে থাকে।”

— ইমাম সুফিয়ান আস-সাওরি (রাহিমাহুল্লাহ)

[জামি’ ‘উলুম, পৃ ১৬]

জঘন্য পাপগুলোর একটি হলো নিজের পাপকাজগুলোকে ছোট করে দেখা

“একজন বান্দার জন্য সবচেয়ে জঘন্য পাপগুলোর একটি হলো তার নিজের পাপকাজগুলোকে ছোট করে দেখা।”

— মুহাম্মাদ বিন আবু-বকর আস-সিদ্দিক

[আল-মুজালাসাহ, পৃ ৩৯৮]

মুনাফিক আ’মল কম করে এবং বেশি কথা বলে

“একজন মু’মিন কথা কম বলেন এবং আ’মল বেশি করেন, কিন্তু একজন মুনাফিক আ’মল কম করে এবং বেশি কথা বলে।”

— আল-আউজা’ই

[সিয়ার আ’লাম আন-নুবালা, ১৩/১৪৬]